কিছু ভিন্নধর্মী তরুণ উদ্যোক্তা, যারা হতে পারে আপনার অনুপ্রেরণা

করোনায় যখন মানুষ ঘরবন্দি আর অলস জীবন যাপন করছে ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কিছু শিক্ষার্থী তাদের অলস সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টায় লিপ্ত। এমনই কিছু ভিন্নধর্মী তরুণ উদ্যোক্তার কথা তুলে ধরা হয়েছে আজকের এই প্রতিবেদনে।

মিনি স্পাইসি ধাবা: বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ তরুণদেরই স্বপ্ন থাকে শিক্ষাজীবন শেষ করে সরকারি চাকরি করা। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বশেমুরবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাসুম। এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন তিনি চাকরির পেছনে ছুটে বেড়াবেন না বরং উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। আর এই স্বপ্ন থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মিনি স্পাইসি ধাবা।

মাসুম বলেন, “করোনাকালীন সময় বাড়িতে থাকা অবস্থায় আমি একটা দেশি মুরগির ফার্ম করি যেখানে মোটা অংকের একটা প্রফিট আসে। সেই থেকেই কাজ শুরু। এরপর গোপালগঞ্জে এসে ইউটিউবিং করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজ খুঁজতে থাকি। এভাবেই এই ধাবাটি আমার চোখে পড়ে এবং পুরোনো মালিকের কাছ থেকে এটা সম্পূর্ণরূপে কিনে নিয়ে নতুন করে সাজিয়ে নতুনভাবে শুরু করি।”

মাসুম জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেঝো। পরিবারের সদস্যরা চিন্তা করতে পারে একারণে তিনি ধাবার বিষয়টি এখনও পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছেন। ভবিষ্যতে যদি এই পর্যায়ে থেকে ভালো কিছু করতে পারেন তবেই বিষয়টি পরিবারের সকলকে জানাবেন।

সরেজমিনে গোপালগঞ্জের লঞ্চঘাটে অবস্থিত ধাবায় গিয়ে দেখা যায় ছোটো সাজানো পরিবেশে দু’জন সহযোগীকে নিয়ে কাজে ব্যস্ত রয়েছেন মাসুম। বর্তমানে ধাবায় যেসব আইটেম পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে আলু লুচি ও মাংস, ডাল, তেতুলের চাটনি, জলপাইয়ের চাটনি, কফি এবং চিপস।

পড়ালেখা এবং ব্যবসার সমন্বয় প্রসঙ্গে মাসুম বলেন, “এখানে আমরা তিন থেকে চার ঘন্টা সময় দেই তাই পড়ালেখায় খুব একটা প্রভাব পড়ে না।”

মাসুম স্বপ্ন দেখেন বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরে কাজ শুরু করলেও একসময় তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন।

ট্রু আইডেন্টিটি: ছোটোবেলা থেকেই কাজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। বিশেষ করে ২০১৮ সাল থেকেই স্বপ্ন দেখতেন অনলাইনে ব্যবসা করার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য অন্যদিকে মন দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে প্রায় ২ বছর পর নুসরাতকে তার ইচ্ছে পূরণের সু্যোগ করে দেয় করোনার কারণে পাওয়া অবসর সময়।

নুসরাত জানান, প্রথমত ৪-৫ মাস খুবই অগোছালো ভাবে সময় কাটিয়েছেন। এমন সময় তিনি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও উদ্যোক্তা প্লাটফর্মের সন্ধান পায়। সেখানে অনেক মেয়েদের স্ব-নির্ভর হওয়ার গল্প ও অনলাইন বিজনেসের সকল বিষয় সম্পর্কে ধারনা পান। আর এরপর আগস্টেই মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।

বর্তমানে নুসরাতের “True Identiity -your online shop ” নামে একটি গ্রুপ ও একটি পেজ রয়েছে। নুসরাত জানান, তার ব্যবসা সম্পূর্ণ অনলাইন নির্ভর। তার পেজ এবং গ্রুপে যশোরের বিখ্যাত হাতের সেলাই করা ‘যশোর স্টিজ’, থ্রি-পিচ সহ সেলাই করা কাপড় পাওয়া যায়। এছাড়াও কুমিল্লার খাদি পাঞ্জাবি, শাড়ি, ওয়ান পিছ, থ্রি-পিচ এর উপর তিনি নিজেই হ্যান্ডপেইন্ট করেন।

ব্যবসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নুসরাত বলেন, “এখন পর্যন্ত অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকেই আমাকে অনেক ভাবে সাহায্য করেছেন সেজন্য সকলকে অনেক ধন্যবাদ।” নুসরাতের স্বপ্ন তিনি ভবিষ্যতে “True Identity ” কে একটা ব্রান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।”

মিলস অন হুইলস: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবাই যখন অলস সময় পার করছিলেন তখন ভিন্নধর্মী কিছু করার চিন্তা করছিলেন তারা। আর সেই চিন্তা থেকেই ‘মিলস অন হুইলস’ নামের ফুডকার্টের যাত্রা শুরু করেন বশেমুরবিপ্রবির চার শিক্ষার্থী জগৎ মোহন, শিহাব শাহরিয়ার, ইমন মারুফ ও তানিম মিয়া।

সরেজমিনে নবীনবাগে গিয়ে দেখা যায় ইতোমধ্যে এই চার শিক্ষার্থীর ফুডকার্টের চিকেন বার্গার বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ব্যবসার কারণে পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে চার শিক্ষার্থীর একজন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ ইমন বলেন ‘আমরা আমাদের কাজ গুলো সুন্দরভাবে ভাগ করে নিয়েছি। যার ফলে এখন পর্যন্ত আমাদের পড়াশোনা ভালোই চলছে এবং কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, “এখন পর্যন্ত বেশ ভাল সাড়া পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসসহ গোপালগঞ্জ শহরে শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*