‘করোনারোধে জনসচেতনায় একজন মুদি দোকানদার বাবলু’

‘কোভিট-১৯’ মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ-প্রার্দুভাব, প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কয়েড়া গ্রামের একজন সচেতন বুল বুল স্টোরের মুুদি দোকানদার মো. বাবলু হোসেন। নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার দোকানের পাশে জনসাধারণদের জন্য বসিয়েছন হাত ধোঁয়ার বেসিন। সরকার ও প্রশাসনের নির্দেশ মতে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও বিক্রি করছেন বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি।

এ বিষয়ে মো. বাবলু হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। যার প্রতিরোধে কোন ওষধ তৈরি হয়নি। এর থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সকলের সচেতনা। আমার জানা মতে, অনেক দোকানদাররা এখনো অসচেতন।

কিন্তু আমি সচেতনার জন্য এসব নিয়মকানুন মেনে চলছি। যাতে করে সবাই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্রেতাদের সচেতন করে তোলেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দোকানদার বাবলু হোসেনের সচেতনার নানা ধরণের উদ্যোগ গ্রহণের চিত্র দেখা গেছে।

এতে দেখা যায়- বাবলু মিয়া তার দোকানের এক পাশে নীল রঙের একটি ড্রাম স্থাপন করেছেন। এতে রাখা হয়েছে সাবান ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি। সাদা কাগজে লিখে রাখছেন, পরিস্কার পরিছন্নতা ঈমানের অঙ্গ-সাবানও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দোকানের সামনে টাঙানো হয়েছে নির্দেশিকা। তিনি বলেন- আমার দোকানে স্থাপন করা বেসিনে যে কেউ হাত ধুয়ে নিতে পারেন। দোকানে ক্রেতা আসলে তাদের সামাজিক দূরত্ব অবস্থান করতে বলি। কোন পণ্য নেয়ার আগে হাত ধোঁয়ার জন্য উৎসাহিত করি।

ক্রেতা সুমন সরকার ও সবুজ মিয়া বলেন- দোকানে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাটা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আমরা তার দোকানে আসলেই প্রথমে হাত ধুয়ে নেই। পরে দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিয় কিনে নিয়ে চলে যাই। নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। দোকানদার বাবলু হোসেনের সচেতনা দেখে আমরাও নিয়মিত হাত ধুঁয়ে আসছি তার দোকানে। তিনিও অন্যদের করোনা প্রতিরোধে সচেতন করে আসছেন।

করোনা প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় মুদি দোকানদার বাবলু হোসেনের ব্যক্তি উদ্যোগের ভূমিকাকে কিভাবে দেখছেন ও অন্যান্যদের জন্য করোনা প্রতিরোধে কি করণীয় এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক আব্দুল মাজেদ মাস্টার বলেন, গ্রাম-অঞ্চলের সাধারণ মানুষগুলো বেশীভাগই অসচেতন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তেমন কোনো নিয়ম মেনে চলেন না। বিকেল হলেই মধ্যরাত পর্যন্ত লেগেই থাকে মানুষের জনসমাগম। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও গ্রাম-অঞ্চলের মানুষদের মাঝে সচেতনার জন্য বাবলু মিয়া তার দোকানে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এরকম ব্যবস্থা অন্যান্য দোকানে নেই। বাবলু মিয়ার মতো করে অন্যান্য মুদি দোকানিরা যদি হাত ধোঁয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সকলের সচেতনার জন্য প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে করোনা প্রতিরোধ মোকাবেলা করা সম্ভব।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*