নিজের ফাঁসি চাইলেন বুয়েট ভিসি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, আমাকে ফাঁসি দিয়ে দাও।

আজ মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় নিজ কার্যালয়ে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগ দাবি করলে এ কথা বলেন তিনি। উপাচার্য কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘিরে ধরে। এ সময় আট দফা দাবির ঘোষণা চায় শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে জানতে চায়, রোববার রাতে আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার পর এত সময় ধরে তিনি কোথায় ছিলেন? একপর্যায়ে উপাচার্য মাইকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলতে চান। কথার শুরুতেই তিনি বলেন, আবরারের মৃত্যু হয়েছে। তখন শিক্ষার্থীরা মৃত্যু নয়, খুন হয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ঠিক আছে, খুনই হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ঘটনার পর থেকে আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। পাঁচ-ছয়জনকে নিয়ে বসেছি। সব তো আমার হাতে নেই। যেগুলো আমার হাতে আছে, সেগুলো আমি করছি। নীতিগতভাবে তোমাদের পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। সারা দিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তোমরা অধৈর্য হবে না।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সিন্ধান্ত না দিয়ে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস না ছাড়ার দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। তখন শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে উদ্দেশ করে ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। এ সময় উপাচার্য সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বারবার বলতে থাকেন,এখানে কথা বলার জায়গা না। কথা বলতে দশজন প্রতিনিধি আমার সাথে বসো। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভুয়া, ভুয়া বলে চিৎকার করে ওঠে। পরে আবারো উপাচার্য বলেন, আমি অসুস্থ। সরকার প্রধান জানেন, আমি কী করেছি। আমি চেষ্টা করছি এর সুষ্ঠু সমাধান করার।

উল্লেখ্য, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র ছিলেন। তিনি শের-ই-বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*