গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েই খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিল: শেখ হাসিনা

দেশে যে গ্যাস আছে তা দিয়ে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এবং ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর জন্য ৩০ হাজার কোটি অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পুরো টাকাই ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের চাহিদা মেটাবার জন্য এলএমজি আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯’র উদ্বোধন কালে একথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি আমদানি খুব ব্যয় সাপেক্ষ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূল্যায়ন করে দেখেছে বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা কতটুক দাম বাড়িয়েছি। গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বিবেচনা করে কমিশন মাত্র ৩২.৮ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার ৯.৮০ টাকা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গ্রাহকদের জন্য কোনো দাম বাড়ানো হয়নি। গণপরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় করে সিএনজি খাতে শুধু প্রতি ঘনমিটারে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এখন থেকে মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সব শিল্প গ্রাহকদের ইবিসি মিটার দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রাহকদের ওপর যেন আর্থিক চাপ বেশি না পড়ে সেজন্য প্রতি বছর ৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি দেয়া হবে। তাছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা দেয়া হবে। আমদানিতে যে মূল্য পড়ছে তাতে আমরা সেখানে পাইপলাইন তৈরি করছি সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছি। এরও একটা খরচ আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যদি খরচটা ধরি তাতে এলএনজি আমদানির খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। আমরা দাম ধরেছি খুব কম। এর দাম পড়ে প্রতি কিউবিক মিটার ৬১.১২ টাকা। আমরা নিচ্ছি মাত্র ৯.৮০ টাকা। যেখানে ৬১.১২ টাকা দাম পড়ে সেখানে ধরা হচ্ছে ৯.৮০ টাকা। অর্থাৎ ৫১.৩২ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা যদি গ্যাস দিতে না পারি তাহলে উৎপাদন বন্ধ হবে, রফতানি বন্ধ হবে, কর্মসংস্থান বন্ধ হবে। এজন্য গ্যাস আমদানির খরচ যেটা, সেটা আমাদের বিবেচনা করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি না যারা আন্দোলন করছেন তারা কি চায়। ভারতে গ্যাসের দাম কমের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু সব খাতেই ভারতে গ্যাসের দাম বাংলাদেশ থেকে বেশি।

তিনি এ সময় ভারত এবং বাংলাদেশের গ্যাস এবং এলএনজি’র বর্তমান মূল্যের একটি তুলনামূলক চিত্রও সংসদে তুলে ধরেন।দেশে গ্যাসের প্রকৃত মজুদের পরিমাণ না জেনে যুক্তরাষ্ট্রের বহুবিধ চাপের পরও ভারতে গ্যাস রপ্তানি করতে রাজি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতির শিকার হয়ে ভোট বেশী পাওয়ার পরেও ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেননি বলে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় এই পরাশক্তির কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েই খালেদা জিয়া ও বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মুচলেকা দেইনি। বলেছিলাম আগে আমাদের চাহিদা পূরণ করে ৫০ বছরের রিজার্ভ রাখার পর চিন্তা করবো। কিন্তু খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়ে এসেছিলেন। নির্বাচনে আমরা বেশি ভোট পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। দেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব ভিক্ষুকমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*